সাধারণ জ্বর, না CORONA কিভাবে বুঝবেন ?

Corona যে মহামারী আকার  আকার ধারণ করেছে, স্বাভাবিকভাবেই  আমরা  সবাই  আতংকিত  কিন্তু সাধারণ  সর্দি -জ্বরও  এইসময়  হয়ে থাকে ঘরে-ঘরে। ফলে অন্যান্য জ্বর আর করোনা ভাইরাসের মধ্যে তফাৎ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর তার ফলে জ্বর  মানেই আতঙ্ক । তাই জ্বর হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অবশ্যই দরকার, তবে করোনা ভাইরাস এ  আক্রান্ত হলে যে উপসর্গ  সাধারণতঃ পরিলক্ষিত  হয়।

জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট:মোটামুটি ভাবে যা দেখা গিয়েছে তাতে করোনা ভাইরাস এর মূল উপসর্গ গুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, শুকনো কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। যেহেতু এই ভাইরাস শ্বাসনালীতে ক্ষতি করে, তাই শুকনো কাশি হয়ে থাকে। এই ভাইরাস শ্বাসনালীর কোষ গুলোকে নষ্ট করে দেয়, তাই শ্বাসকষ্ট এর অন্যতম উপসর্গ।যেহেতু এটি একটি ভাইরাস তাই সবার আগে ভাইরাল ইনফেকশনের জ্বর আসে। ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে লক্ষণগুলি সেরকম প্রকট নয়। এমন কি আদৌ লক্ষণ নেই এরকমটাও দেখা গিয়েছে। তাই জ্বরের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তার দেখানো জরুরি।

সাধারণ জ্বরের লক্ষণ:এই সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য যে জ্বর আসে তাদের সাধারণভাবে সবার আগে সর্দি হতে দেখা  যায়। নাক দিয়ে জল পড়ার প্রবণতা তৈরি হয়। করোনা  আক্রান্তদের ক্ষেত্রে খুব কমই নাক দিয়ে জল পড়ার লক্ষণ দেখা গিয়েছে। তাই সর্দি থাকলে সাধারণ জ্বর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

 গলা ব্যথা:গলা ব্যথা মানেই করোনা নয়। ঠান্ডা জল খাওয়া থেকেও গলা ব্যথা হতে পারে। তাই শুধুমাত্র গলায় ব্যথা থাকলে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।যদি বুঝতে পারেন যে, আপনার মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের একাধিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাহলে কী করবেন?  কখন পরীক্ষা করাবেন?সাধারণ সর্দি, জ্বর হলে করোনা ভাইরাস এর পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। যদি জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। আর যদি অন্যান্য ধরনের জ্বর এর থেকে বেশি সময় ধরে এই জ্বর শরীরে থাকে তাহলে অবশ্যই বিষয়টাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে বিবিসি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাবেরা গুলনাহার, ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক কাজি সাইফুদ্দিন বেন্নুর এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তাহমিনা শিরিনের সঙ্গে কথা বলেছে।তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কিছু পরামর্শ:

শুরুতেই আলাদা হয়ে যান:করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম লক্ষণ হলো জ্বর এবং শুকনো কাশি। এছাড়া থাকতে পারে শরীরের পেশীতে ব্যথা, গলা ব্যথা, স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি না থাকা, শ্বাসকষ্ট, কখনো পেট খারাপ ও বমি বা বমি বমি ভাব।চিকিৎসকেরা মনে করেন, কেউ যদি নিজের মধ্যে এ রকম একাধিক লক্ষণ দেখতে পান, তাহলে শুরুতেই 'সেলফ-আইসোলেশনে' চলে যান, অর্থাৎ নিজেকে পরিবারের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে পুরোপুরি আলাদা করে ফেলুন।সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যাবে।সম্ভব হলে আলাদা একটি ঘরে থাকুন, যেখানে প্রাতঃকর্ম এবং অন্যান্য কাজের জন্য বাইরে বের হতে না হয়। খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধ ঘরের দরজার বাইরে রেখে যাবেন পরিবারের সদস্যরা।এই ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে অন্যদের থেকে অন্তত ছয়ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন এবং মাস্ক পড়ুন।নমুনা পরীক্ষা করাতে হবেযদিও চিকিৎসকেরা বলছেন, এখন সাধারণভাবে জ্বরের সঙ্গে আরো এক বা একাধিক উপসর্গ দেখা গেলে কোভিড-১৯ ধরে নিয়েই ব্যবস্থা নিতে হবে অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।সরকারি এবং বেসরকারি উভয় খাতে নমুনা পরীক্ষা করানো যায়। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ৬২ টি সরকারি পরীক্ষাগারে করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার মধ্যে ৩২টি ঢাকায়।সেক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া হটলাইন নম্বরে ফোন দিয়ে, অথবা স্থানীয় সিভিল সার্জন কিংবা সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগ করতে হবে।সরকারি পরীক্ষাগারে বিনামূল্যে নমুনা পরীক্ষা করানো যাবে।বেসরকারিভাবে নমুনা পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করালে ৩,৫০০ টাকা এবং বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলে ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ বেঁধে দিয়েছে সরকার।

গরম পানির গার্গল ও ভাপ : আপনি হয়ত নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়েছেন, কিন্তু তার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত বসে না থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে কিছু কাজ করতে হবে।এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে গরম পানির গার্গল করা, এবং চিকিৎসকেরা বলছেন দিনে অন্তত চার থেকে ছয়বার গার্গল করুন। গরম পানির সাথে লেবু ও লবন মিশিয়ে  পান করতে পারেন। এছাড়া দিনে কয়েকবার গরম পানির ভাপ নিন।

পুষ্টিকর খাবার খান: চিকিৎসকেরা মনে করেন, এ সময় ইম্যুনিটি অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খান।এজন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাবার খান। স্যুপ খেতে পারেন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান। লেবু, আমলকি, চুকাই ফল  খেতে পারেন।

 চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগ  site এর  মাধ্যমে কারো শেয়ার করা প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খেতে নিষেধ করছেন।শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা খেয়াল রাখুন:এসময় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রার ওঠানামা খেয়াল রাখতে হবে। পালস Oxymeter নামে ছোট একটি মেডিকেল যন্ত্র এক্ষেত্রে হাতের কাছে রাখতে পারেন।আঙুলের মাথায় লাগিয়ে হৃৎস্পন্দন ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপা যায়।সাধারণত পালস অক্সিমিটারে ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ অক্সিজেন মাত্রাকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।অর্থাৎ অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশের কম হলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, বুক-ব্যথা, কিংবা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে। তখন অক্সিজেন দিতে হবে। তখন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, অথবা বাড়িতেই অক্সিজেন দেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে: কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন বেশিরভাগ মানুষ। চিকিৎসকেরা মনে করেন, এসময় রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে, এবং তাকে সাহস দিতে হবে।ইতিবাচক চিন্তা করতে সহায়ক কাজকর্ম করা, এবং প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নিতে হবে।

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের বিশেষ সতর্কতা:কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তদের মধ্যে যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা অ্যাজমার মতো স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, কিংবা যাদের বয়স বেশি তাদের ঝুঁকি অন্য রোগীদের বেশি।সেজন্য আপনাকে বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।অন্যান্য কোভিড-১৯ রোগীর জন্য যা যা করনীয়, তাদের জন্যও সেগুলো প্রযোজ্য হবে।খেয়াল রাখতে হবে শরীর যাতে পানিশূন্য হয়ে না যায় এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম করুন।সেই সঙ্গে আগে থেকে যেসব ওষুধ চলছিল সেগুলো চালিয়ে যেতে হবে। তবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।