Is Turkey Really Powerful Enough?
তুরস্ক বর্তমানে টপ টেনের কোন শক্তি নয়। সেটা সামরিক দিক থেকে হোক অথবা অর্থনৈতিক দিক থেকে হোক। যদি সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে তুরস্ক টপটেনের একটি শক্তি হতে চায় তবে তাকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফুলস্কেলে দৌড়াতে হবে। যাতে করে প্রতিদন্ধীদেরকে পিছনে ফেলা যায়।
বর্তমানে তুরস্ক অর্থনৈতিক ভাবে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) দিক থেকে ১৯তম এবং পিপিপির (মোট ক্রয় ক্ষমতা) দিক থেকে ১৩তম।
অস্ত্র উৎপাদনের দিক থেকেও ১৩তম। গ্লোবাল মিলিটারি ফায়ার পাওয়ার যদিও তুরস্ককে টপটেনের একটি শক্তি হিসেবে দেখায় কিন্তু সে এখনো অস্ত্রের ক্ষেত্রে বিশাল অংশে অন্যের উপর নির্ভরশীল। সে যেই সব রাষ্টগুলো থেকে অস্ত্রের টট সহ ক্রয় করে তাদেরকে টপকে কখনোই সে সেরা শক্তি হতে পারে না। তুরস্ক যেই সব রাষ্টগুলো থেকে অতীতে অস্ত্র ক্রয় করেছে বা করছে সেগুলো হচ্ছে,
যুক্তরাষ্ট, যুক্তরাজ্য, জার্মানী, ফ্রান্স, ইতালি, দক্ষিন কোরিয়া, স্পেন, ইসরাঈল, পাকিস্তান, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া, দক্ষিন আফ্রিকা, ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, ইউক্রেন, আজারবাইজান, চীন, চেক রিপাবলিক, কানাডা, ফিনল্যান্ড।
তুরস্কের এখনো নিজস্ব নিউক্লিয়ার ওয়েপনস নাই। একই সাথে তুরস্কের অর্থনীতি ২০২৪ সালের মাঝে সেরা দশে নিয়া আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এরদোয়ান। হয়তো ২০২৮ সাল পর্যন্তও সময় লেগে যেতে পারে। তুরস্কের নিজের তৈরী সবধরনের অস্ত্র সার্ভিসে নিয়ে আসতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে। নিচে কিছু তুরস্কের নিজেদের তৈরী সামরিক লজিষ্টিকের তালিকা দেওয়া হলো।
তুরস্ক নিজেই শর্টগান, রাইফেল, এসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল বা এন্টি ম্যাটারিয়াল রাইফেল, লাইট মেশিন গান, হেভি মেশিন গান, এন্টি এয়ারক্রাফট ক্যানন, গাইডেট ও আনগাইডেট মর্টার শেল, রকেট, গ্রেনেড লাঞ্চার, হ্যান্ড গ্রেনেড, রকেট প্রপেল্ড গ্রেনেড বা সেল্ফ প্রপেল্ড গ্রেনেড, ল্যান্ড মাইন, ম্যানপ্যাড, এটিজিএম ও এটিএম, এমএলআরএস, হুইটজার, এসপিজি, এসপিএএজি, রকেট মর্টার ও আর্টিলারি কাউন্টার সিস্টেম (CIWS এর ল্যান্ড ভার্সন), কাউন্টার ব্যাটারি রাডার, প্রটেকটিভ গিয়ার (কমব্যাট হেলমেট, ব্যালিস্টিক ভেস্ট), সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও সেন্সর তৈরী করে।
তুরস্কের নিজের তৈরি হাজারের উপর বিভিন্ন ধরনের সেন্সর রয়েছে। তার মধ্যে বিশেষভাবে ল্যান্ড মাইন ডিটেক্টিভ সেন্সরগুলো বেশ ভালো পারফরমেন্স দেখিয়েছে সিরিয়াতে। এই কারনেই তুরস্ক সিরিয়াতে এই পর্যন্ত তিনটি অপারেশন চালালেও ল্যান্ড মাইনের আঘাতে কোন সেনা কিংবা সামরিক যান ধ্বংস হওয়ার তেমন কোন খবর পাওয়া যায়নি। তুরস্কের তৈরি নাইট ভিশন গগলস এবং টেলিস্কোপও সিরিয়াতে বেশ ভাল পারফরমেন্স দেখিয়েছ। তুর্কি আর্টিলারির পারফরম্যান্স সিরিয়াতে-তো প্রমানিত হয়ে গেল। তুরস্কের রয়েছে নিজস্ব ভালো মানের এপিসি, আইএফভি। এবং আনম্যান্ড গ্রাউন্ড ফাইটিং ও ইনটেলিজেন্স ভেহিকল। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে অ্যাসেলসানের SARP ভেহিকলটি। এটি ইতিমধ্যে কিছু ন্যাটো সদস্য রাষ্টের কাছে বিক্রিও করা হয়েছে।
তুরস্কের কয়েকটি কম্পানি এপিসি, আইএফভি এবং বিভিন্ন ধরনের আর্মাড কার ও ইঞ্জিনিয়ারিং ভেহিকল তৈরি করে থাকে। তার মাঝে বিশেষ ভাবে উল্ল্যেখযোগ্য হলো, BMC, OTKAR, FNSS, Nurol Makina সহআরো কয়েকটি কম্পানির নিজস্ব ভাবে তৈরি অনেক ধরনের আর্মাড কার ও ইঞ্জিনিয়ারিং ভেহিকল আছে।
T-300 kasirga এটি তুরস্কের তৈরি একটি সেল্ফ প্রপেল্ড এমএলআরএস। এর ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ১২০কিঃমিঃ। এবং অপারেশনাল রেঞ্জ ৯৫০কিঃমিঃ।
T-122 Sakarya এটি একটি তুরস্কের তৈরি এমএলআরএস। এর ম্যাক্সিমাম ফায়ারিং রেঞ্জ ৪০কিঃমিঃ। এবং অপারেশনাল রেঞ্জ ৯৭০ কিঃমিঃ।
KAPLAN MT এটি একটি তুর্কি লাইট ওয়েট ট্যাংক। কাপলানের প্রজেক্টটি ইন্দোনেশিয়ার সাথে যৌথ ভাবে। উল্ল্যেখ্য কাপলান নামে তুরস্কের একটি আনম্যান্ড আইএফভি-ও রয়েছে। একই নামে আরো একটি ট্যাংক ডেস্ট্রয়ার ভেহিকল রয়েছে। UCAP নামে আরো একটি আনম্যান্ড আইএফভি রয়েছে।
হেভি ওয়েট ব্যাটেল ট্যাংক আলতাই। আলতাই এর ইঞ্জিন জার্মানী থেকে আমদানি করা হতো কিন্তু অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চের পর ইঞ্জিন চুক্তি নিয়ে ঝামেলা শুরু হওয়ার পর তারা নিজারাই ট্যাংকের ইঞ্জিন বানানোর ঘোষনা দেয়। এবং ২০২০ সালের গোড়ার দিকে ইঞ্জিনটি সার্ভিসে আসবে। সাধারনত 1500 hp এর চেয়ে বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন কোন ইঞ্জিনই ট্যাংকে ব্যাবহার করা হয় না। তবে তুরস্কের নির্মিত এই ইঞ্জিনটির ক্ষমতা হবে 1800hp। এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী ক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাংক ইঞ্জিন।
২০১৯ সালে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ডিফেন্স এক্সপোতে তুরস্ক ম্যানপোর্টবল সুপার লেজার গান প্রদর্শন করে। এটি এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে একমাত্র ম্যান পোর্টেবল লেজার ওয়েপনস। তুরস্কের আরেক ইলেক্ট্রিক কম্পানি হার্প আর্জ একটি বিশেষ ধরনের ম্যানপোর্টবল এন্টি ড্রোন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক গান তৈরি করেছে।যা E60 নামে পরিচিত।এর রেঞ্জ ৩কিঃমিঃ এবং ওজন মাত্র ২.৫কেজি।লো অল্টিটিউডে থাকা কোন গোয়ান্দা ড্রোন ভুপাতিত করার জন্য এটি একটি মোক্ষম অস্ত্র। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে তুর্কি সংবাদ মাধ্যম ইয়ানি সাফাকের এক রিপোর্টে এসেছে, তুরস্ক আগামী ৫ বছরের মাঝে রোবট সোলজার সার্ভিসে নিয়ে আসবে। যদিও মার্কিনিরা অনেকবার যুদ্ধ ক্ষেত্রে রোবট সোলজার ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যার্থ হয়েছে। রোবট সোলজারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যুদ্ধ ক্ষেত্রে হ্যাক হয়ে শত্রু পক্ষের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। যা যুদ্ধের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই জন্য তুরস্ক ৫ বছরের মাঝে নিজস্ব সাইবার আর্মি প্রতিষ্ঠা করবে।
ATILGAN এটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাইসেন্স নিয়ে তুরস্কের একটি ট্যাংক বা ছোট আর্মাড কারের বডির উপর নির্মান করা শর্ট রেঞ্জের মোবাইল এয়ার ডিফেন্স। এতে ব্যাবহৃত রাডার সহ অন্যান্য পার্টসগুলো নিজের হলেও এতে ব্যাবহৃত মিসাইলগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের FIM 92 স্টিংগার। এগুলোর রেঞ্জ ৮কিঃমিঃ। স্টিংগার মিসাইলগুলো তুরস্ক টট নিয়ে তৈরা করে থাকে।
ZIPKIN এটিও ATILGANএর মতই একটি শর্ট রেঞ্জের এয়ার ডিফেন্স।যা তুরস্ক যুক্তরাজ্য থেকে টট নিয়ে নির্মান করে।এতে ব্যাবহৃত বেশিরভাগ পার্টসই তুরস্কের নিজের তৈরি।এগুলোর রেঞ্জ ৬+কিঃমিঃ।
Hisan এটি তুরস্কের তৈরি একটি একেবারে শর্ট রেঞ্জেরএয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।এর রেঞ্জ আন্ডার ৬কিঃমিঃ।এটি সর্ব প্রথম আলোচনায় আসে লিবিয়াতে এলএনএর একটি MI35 শুট ডাউন করার দ্বারা।
Sungur এটি একটি তুরস্কের তৈরি শর্ট রেঞ্জের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।এর ম্যানপ্যাড ভার্সনে PORSAV এর ইফেক্টিভ রেঞ্জ ৬+কিঃমিঃ এবং অল্টিটিউড ৪কিঃমিঃ।।ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ৮কিঃমিঃ।তবে রাডার সহকারে এর ভেহিকল বেসড ও শিপ বেসড বা এয়ার লাঞ্চড ভার্সনের ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ১০+কিঃমিঃ।
Hisar-A এটি তুরস্কের নিজস্ব তৈরি শর্ট রেঞ্জের এয়ার ডিফেন্স।বর্তমানে সার্ভিসে আছে।এটির ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ১৫কিঃমিঃ।অল্টিটিউড ১০কিঃমিঃ।
Hisar-O এটি তুরস্কের নিজস্ব তৈরি মিডিয়াম রেঞ্জের এয়ার ডিফেন্স Hisar-O এর ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ২৫কিঃমিঃ।অল্টিটিউড ১৫কিঃমিঃ।এটি ২০২১সালে সার্ভিসে আসবে।
Hisar-U এটি তুরস্কের নিজস্ব তৈরি লং রেঞ্জের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এর ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ১০০+কিঃমিঃ(রাডার রেঞ্জ ৬০০কিঃমিঃ)।অল্টিটিউড ২০+কিঃমিঃ। এটি ২০২৩ সালে সার্ভিসে আসবে।
তুরস্ক S-400 টট সহ ক্রয় করেছে। এটাতে চার ধরনের মিসাইল রয়েছে।এগুলোর রেঞ্জ যথাক্রমে ৪০,১২০,২৫০,৪০০ কিঃমিঃ। এর ২য় ধাপ উৎপাদন শুরু হবে কিছুদিনের মাঝেই।
২য় ধাপে তুরস্ক টট নিয়ে তুরস্কের মাটিতেই S-400 তৈরি করবে।ডেলিভারি পাওয়া প্রথম ব্যাচটি কিছুদিনের মাঝেই একটিভ হবে।তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছিলেন,তুরস্ক S-500 এর প্রজেক্টেও জয়েন দিবে।মার্কিন এয়ার ডিফেন্স প্যাট্রিয়ট সিষ্টেম টট সহ কেনার জন্য অনেক দিন ধরেই চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে।এই বিষয়ে ২০২১ সালের শেষের দিকে এই বিষয়ে কোন চুক্তি হতে পারে।ইউরোস্যামকে আরো ডেভেলপ করে এন্টি ব্যালেস্টিক মিসাঈল ডিফেন্সে পরিনত করতে ফ্রান্সের সাথে চুক্তি করেছে।তবে বর্তমানে সেই চুক্তি ঝুলন্ত অবস্থায় আছে।
ALKA DEWS নামে তুরস্কের এক ধরনের এন্টি ড্রোন লেজার এয়ারডিফেন্স রয়েছে।এটি যেকোন ধরনের রোবট সোলজারের বিরুদ্ধে বেশ ভাল কার্যকর হবে।
ডিরেক্ট এনার্জি ওয়েপনস তৈরির ক্ষেত্রে তুরস্ক অনেক দুর এগিয়েছে।তুরস্ক ২০১৯ সালে লিবিয়াতে একটি চাইনিজ উইং লং ড্রোন ভুপাতিত করেছিলো লেজার এয়ার ডিফেন্স দ্বারা।তুরস্কই ওয়ার্ল্ডে প্রথম রাষ্ট যারা লেজার ওয়েপনস যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যাবহার করেছে এবং সফল হয়েছে।Armol নামে তুরস্কের এক ধরনের বিশেষ লেজার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রয়েছে।তুর্কি ডিফেন্স কম্পানি এ্যাসেলসানের IHTAR নামে এক ধরনের লেজার
এয়ার ডিফেন্স।এটি লো অল্টিটিউডে উড়তে থাকা গোয়েন্দা ড্রোন ভুপাতিত করতে বেশ কার্যকর।তুরস্ক আরেক ধরনের লেজার এয়ার ডিফেন্স তৈরির ঘোষনা দিয়েছে।যেটি ৪কিঃমিঃ উচ্চতায় উড়তে যেকোন ধরনের ড্রোন ভুপাতিত করতে সক্ষম হবে।
তুরস্কের নিজস্ব ভালো মানের কিছু রাডার রয়েছে।তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে,
ACAR এটি একটি গ্রাউন্ড সার্ভিলেইন্স রাডার।
KALKAN এটি একটি মোবাইল রাডার।এর রেঞ্জ ১২০কিঃমিঃ।এবং এর আপডেট ভার্সন KALKAN-2 এর রেঞ্জ প্রায় ১৮০কিঃমিঃ।
SERHATএটি একটি কাউন্টার ব্যাটারি রাডার।এর আপডেট ভার্সন হচ্ছে SERHAT-2।একগুলো যেকোন ধরনের মর্টার শেল ও আর্টিলারি ডিটেক্ট করতে এবং এগুলো ফায়ার এর উৎসস্থল খুজতে এই ধরনের রাডার ব্যাবহৃত হয়।এক কথায় এগুলোকে CIWS এর রাডারের ল্যান্ড ভার্সন বলা যায়।
KORAL তুর্কি ইলেক্ট্রনিক জ্যামার কোরাল সিস্টেমের সফলতা আমারা সিরিয়াতেই দেখতে পেয়েছি।কোরালের রেঞ্জ ৩০০কিঃমিঃ।
K.Adv (describe), [24/04/22 7:16 PM]
REDET-2 এটি REDET এর আপডেট ভার্সন একটি ইলেকট্রনিক জ্যামার।তবে কোরালের থেকে এর আলাদা বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে,এর রেঞ্জের মাঝে থাকা শত্রুপক্ষের রাডার বা এয়ারডিফেন্সের রাডারকে খুজে বের করে তাতে এক ধরনের লেজার বীম ফায়ার করে এতে ঐ রাডারটি স্থায়ী ভাবে অকেজো হয়ে যায়।কিন্তু এর রেঞ্জ খুবই অল্প হওয়ায় এটি কোন গৃহযুদ্ধ ক্ষেত্রে মোতায়ন করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।কারন এর টেকনোলজি শত্রুর হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।তাই এটিকে সিরিয়া অথবা লিবিয়াতে ডেপ্লয় করা হয়নি।এর ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ১০০কিঃমিঃ।এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই ২০২৩ সালের মাঝে রিডিট ও কোরালের এয়ারবোর্ন সিস্টেম সার্ভিসে নিয়ে আসবে তুরস্ক।কানাডার বোম্বারডিয়ার এভিয়েশনের দুইটি Bombardiar global-600 বিমানে রিমোট কন্ট্রোল ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ইনস্টল করবে তুরস্ক।এটি ২০২৩ সালে সার্ভিসে আসবে।এবং এটির রেঞ্জকে বৃদ্ধি করার জন্য চেষ্টাও চলছে।আর কোরালের রেঞ্জের মধ্যে শত্রুপক্ষের কোন রাডার থাকলে সেটি সচল থাকলেও কোন এয়ারক্রাফট বা মিসাইল ডিটেক্ট করতে পারেনা কিন্তু কোরালের রেঞ্জের বাহিরে গেলে রাডার ঠিকই কাজ করতে শুরু করে।
RF Jammer(রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামার) এগুলো হচ্ছে কার বেসড ও ম্যানপোর্টেবল RCIED জ্যামার ।এগুলো যুদ্ধ ক্ষেত্রে সৈন্যদেরকে যেকোন ধরনের রেডিও কন্ট্রোল বিস্ফোরক ডিভাইস ব্লাস্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে।
এগুলো ছাড়াও তুরস্কের তৈরি মিডিয়াম ও শর্ট রেঞ্জের ইলেকট্রনিক জ্যামার এবং কার ও বাইক বেসড,ড্রোন ও ম্যান পোর্টেবল বিভিন্ন ধরনের ছোটখাট ইলেকট্রনিক জ্যামার রয়েছে।
উল্লেখ্য যে,এই সমস্ত জ্যামারগুলোকে যুদ্ধ জাহাযেও ব্যাবহার করা যায়।ভার্সন ও আকার-আকৃতি ভেদে এগুলোকে ছোটখাট রেসপন্স বোট থেকে নিয়ে যেকোন ধরনের ক্রুজার বা এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারেও ব্যাবহার করা যায়।
তুরস্কের রয়েছে নিজস্ব ক্রুজ মিসাঈল SOM।এর রেঞ্জ ২৫০০কিঃমিঃ করার নির্দেশ দিয়েছেন এরদোয়ান।এটির দুইটি ভার্সন রয়েছে,ল্যান্ড এটাক ও এন্টি শিপ।এর বর্তমান রেঞ্জ ২৫০কিঃমিঃ।এটিতে প্রথমে পশ্চিমা ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হলেও এখন তুর্কি ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হবে।তুরস্কের Kale গ্রুপ এর জন্য টার্বোজেট ইঞ্জিন নিমার্ন করেছে এবং পরিক্ষাও চালিয়েছে।এটিকে ল্যান্ড,এয়ার,শিপ ও সাবমেরিন থেকে লাঞ্চের উপযোগী করে তোলার চেস্টা চলছে।
GEZGIN এটি একটি তুরস্কের তৈরি ক্রুজ মিসাইল।এর রেঞ্জ ৮০০কিঃমিঃ।ওজন ১.৫টন।এটি সাবমেরিন,শিপ ও ল্যান্ড লাঞ্চড ক্যাপাবল।
তুরস্কের JT-600 ব্যালেস্টিক মিসাঈলের বিভিন্ন ধরনের রেঞ্জ রয়েছে।এরদোয়ান বলেছিলো,২০২৪ সালের মাঝে তুরস্ককে ১৫০০০কিঃমিঃ রেঞ্জের ব্যালেস্টিক মিসাইলের অধিকারি করে তুলবেন।এবং সবধরনের প্লাটফর্ম থেকেই ব্যালেস্টিক মিসাঈল লাঞ্চ করতে সক্ষম হবে তুরস্ক।
তুরস্কের বিভিন্ন ধরনের স্যাটেলাইট নির্মান ও এন্টি স্যাটেলাইট মিসাইল নির্মানের প্রজেক্টও চলমান রয়েছে।তুরস্ক ইতিমধ্যে কিছু স্যাটেলাইট নির্মান করে উৎক্ষেপনও করেছে।আরো কিছু ২০২৩ সালের মাঝে নির্মান করে উৎক্ষেপন করবে।
সম্ভবত তুরস্ক পরমানু অস্ত্র তৈরির গবেষনাও চালিয়ে যাচ্ছে। এরদোয়ান প্রায়ই বলে থাকেন, "জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্যপদের পরিবর্তন হওয়া দরকার। ৫টি দেশের হাতে কখনোই সারা বিশ্বের ভাগ্য ঝুলে থাকতে পারে না। পৃথিবিটা ৫টি দেশের চেয়ে অনেক বড়।"
অর্থাৎ তুরস্ক জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে চায়। অথচ স্থায়ি সদস্যদের প্রত্যকেই পারমানবিক শক্তিধর। পারমানবিক শক্তি অর্জন ব্যাতিত তুরস্ক কখনোই এই পদটির দাবি করতে পারে না। এর দ্বারা বুঝাই যায় তুরস্ক হয়তো পারমানবিক শক্তি অর্জন করেছে অথবা অর্জন করার পথে আছে।
তুরস্কের নিজস্ব তৈরি দুই ধরনের এয়ার টু এয়ার মিসাইল রয়েছেGokdogan ও Bozdogan।Gokdogan হচ্ছে শর্ট রেঞ্জের এয়ার টু এয়ার মিসাইল। যা তুরস্ক AIM 9X Sidwinderকে রিপ্লেস করার জন্য তৈরি করেছে। bozdogan এর দুইটি ভার্সন থাকবে, একটি মিডিয়াম রেঞ্জের ও একটি লং রেঞ্জের বিভিয়ার মিসাইল । এটি দিয়ে তুরস্ক AIM120 C-7কে রিপ্লেস করবে।এটি যুক্তরাষ্ট্রের AIM 260 এর সমতুল্য। এর রেঞ্জ 200+কিঃমিঃ।
তুর্কি বিমান বাহিনী যুক্তরাষ্টের পরে সর্বোচ্চ সংখ্যক F16 এর ব্যাবহারকারী দেশ।যুক্তরাষ্টের থেকে টট নিয়ে এর ইঞ্জিন সহ নিজেরাই উৎপাদন করেছে।তুরস্ক ১৯৮৭ সালের অক্টোবর মাসে সর্বপ্রথম F16 যুদ্ধ বিমান ডেলিভারি পায়।এখন পর্যন্ত প্রায় এই ৩৩বছরে তুর্কি এয়ারফোর্সের ৩৬টি F16 ক্রাশ করেছে।তুরস্ক মোট ২৭০টি F16 ক্রয় করেছিলো।বর্তমানে তুরস্কের এয়ারফোর্সে ২৩৪টি F16 সার্ভিসে আছে।অর্থাৎ ১৩স্কোয়াড্রন(১স্কোয়াড্রন=১৮ যুদ্ধ বিমান,এটাই স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম)।এবং ১৯৯৭সালে ইসরাঈল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রি(IAI) এর সাথে ৫৪ টি F4 Fhantom আপগ্রেডের চুক্তি করে তুর্কি ডিফেন্স বোর্ড এসএসবি।২০০৪ সালে আবারও এসএসবি তুর্কি ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এসেলসানের সাথে ১৮ টি F4 Terminator 2020 আপগ্রেডের চুক্তি করে।বর্তমানে তুর্কি এয়ারফোর্সে মোট ৪৬টি F4 Terminator
2020 সার্ভিসে আছে।বর্তমানে তুর্কি এয়ারফোর্সে মোট কমব্যাট এয়ারক্রাফট আছে ২৮০টি।মার্কিন F35 বিমান নির্মানের অন্যতম অংশীদার তুরস্ক।তারা ১২০টি F35 কেনার পরিকল্পনা করেছে।তার মাঝে ৩০টি কেনার অর্ডারও দেওয়া হয়েছিলো ।এর জন্য তুরস্ক অগ্রীম ১.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার পরিশোধও করেছিলো।৪টি মুল ফাইটার ও ২টি ট্রেইনার ভার্সন সহ মোট ৬টি F35 ডেলিভারি দেওয়ার কথা বলেও পরে আর দেয়নি যুক্তরাষ্ট।ধারনা করা হচ্ছিলো, ২০২১সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম ব্যাচের F35 ডেলিভারি পেতে পারে তুরস্ক।কিন্তু গত ৮/৫/২০২০তারিখে রাশিয়াকে তুরস্ক ২য় ব্যাচ S400 এয়ারডিফেন্স যৌথভাবে উৎপাদনের প্রস্তাব দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র অফিসিয়াল ভাবে ঘোষণা দেয় যে,তুরস্ককে দেওয়ার জন্য স্টক করে রেখে দেওয়া ৬টি(এর মধ্যে ২টি ট্রেইনার ভার্সন) F35 লাইটনিংগুলো আপগ্রেড করে ইউএস এয়ারফোর্সকে ব্যাবহারের নির্দেশ দেয়।এর কিছুদিন আগে তুরস্ক S400-T নন অপারেশনাল রেখে F35 এর ব্যাপারে আলোচনা চালিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে।কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এতে রাজি হয়নি।এর জবাবেই তুরস্ক নতুনভাবে ২য় ব্যাচ S400-T উৎপাদনের প্রস্তাব দেয় রাশিয়াকে।এটি সেই পুরোনো ২.৫বিলিয়ন ইউএস ডলারের চুক্তিরই এক অংশ।আর F35 এর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষনার পরে যুক্তরাষ্ট্রকে F35 বাবদ অগ্রীম দেওয়া ১.৫বিলিয়ন ইউএস ডলার ফেরত চেয়েছে তুরস্ক।সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ সহজে ফেরত দেবে না।তুরস্কের জন্য এই টাকা উসুলের একটি ভালো অপশন হচ্ছে ১৮-২০টি ব্রান্ড নিউ F16 ব্লক৫০/৫২ ক্রয় করা।যেগুলোতে বেশিরভাগ নিজস্ব এভিওনিক্স,সেন্সর,ওয়েপনস ব্যাবহার করতে হবে।এতে করে ১.৫বিলিয়ন ইউএস ডলারেই ১৮-২০টি F16 ব্লক ৫০/৫২ ক্রয় করা যাবে।
তুরস্কের নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের বিমান,
TAI TF-X এর নির্মান কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালে।ফাস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করবে ২০২৫ সালে।এবং মিডেন ফ্লাইট সম্পন্ন করবে২০২৭ সালে।সব ঠিকঠাক থাকলে এর ম্যাস প্রডাকশন শুরু হবে২০২৮ সালে।তুরস্কের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর জন্য ৫৪০ পিচ TAI TF-X ক্রয় করবে তুরস্ক।প্রাথমিক ভাবে প্রতি ১০দিনে এক পিচ TAI TF-X উৎপাদন করা হবে অর্থাৎ বছরে ৩৬টি(২ স্কোয়াড্রন)।তুরস্কের লক্ষ্য হচ্ছে, TAI TFX বিমানে সব কিছুই তুরস্কের তৈরি জিনিস ব্যাবহার
করা।এই কারনেই এই প্রজেক্ট কিছুটা পিছিয়ে গেছে।প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশ কম্পানি রোলস রয়েসের তৈরী টাইফুনের যুদ্ধ বিমানে ব্যাবহৃত একই ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হবে।কিন্তু পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সবকিছুই তুর্কি জিনিস ব্যাবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।তুরস্ক ইতিমধ্যেই IFF সেন্সর তৈরি করছে এবং F16 বিমানে ব্যবহার করে সফলভাবে টেস্ট সম্পন্ন করেছে।এবং তুর্কি ডিফেন্স কম্পানি এসেলসান ইতিমধ্যে নেক্সট জেনারেশনের AESA রাডারও তৈরি করেছে।
তুর্কি পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্স ট্রেইনার বিমান Hurjet এর ওয়েপনস ক্যাপাবিলিটি হচ্ছে ৩ টন।এটি তুরস্কের নিজস্ব তৈরি এয়ার টু এয়ার মিসাইল Gokdogan ও Bozdogan বহন করতে পারবে।এটিতেও তুরস্ককের নিজস্ব টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হবে।
হচ্ছে তুরস্কের তৈরি একটি বেসিক ট্রেইনার বিমান।এর পাঁচটি ভার্সন রয়েছে।
১/Hurkus A হচ্ছে বেসামরিক ভার্সন।
২/Hurkus B হচ্ছে ট্রেইনার ভার্সন।
৩/Hurkus C হচ্ছে গ্রাউন্ড এটাক ভার্সন।এটি ১.৫টন ওয়েপনস ক্যারি করতে পারে।
৪/Hurkus C UAS হচ্ছে Hurkus C এর আনম্যান্ড ভার্সন।
৫/কোস্ট গার্ডের জন্যে Hurkus এর একটি মেরিটাইম পেট্রল ভার্সনও রয়েছে।এটিতেও তুরস্কের নিজের তৈরি TS1400 টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হবে।
লাইট এ্যাটাক হেলিকপ্টার।এর ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট হচ্ছে ৫টন।এটি ১.৫টন ওয়েপনস ক্যারি করতে পারে।এটি "এটাক ফাস্ট" নীতিতে তৈরি করা হয়েছিলো।এটি সিরিয়াতে অপারেশন পিস স্প্রিংয়ের সময় কুর্দিদের হাতে ম্যানপ্যাড দ্বারা শুটডাউন হওয়ার পরে এটাকে আরো ব্যাপক আপগ্রেড করা হয়।আপগ্রেডকৃত T129 ATAK-2 ২০২০সালের শেষের দিকে তুর্কি সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।একে সেফটি ফাস্ট নীতিতে তৈরি করা হয়েছে।এতে নতুন করে ইনস্টল করা হয়েছে লেজার ওয়ার্নিং রিসিভার,রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি জ্যামার,ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পড সহ ইত্যাদি যুক্ত করা হয়েছে।এটি যুক্তরাষ্ট্রের FIM 92 এর এয়ার টু এয়ার ভার্সন বহন করতে পারবে।যার ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ১০কিঃমিঃ।এবং এতে তুরস্কের নিজস্ব TS1400 টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হবে।
T625 এটি তুরস্কের তৈরি একটি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার।এর ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট হচ্ছে ৬টন।এটি ১২জন সৈন্য সহ কিছু লজিস্টিক বহন করতে পারে।এতেও তুরস্কের নিজস্ব TS1400 টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হবে।
T629 এটি একটি তুর্কি হেভি এ্যাটাক হেলিকপ্টার।এর ওয়েপনস ক্যাপাবিলিটি হবে ২টন।
এটি আন্ডার ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে রয়েছে।এর বডির ডিজাইনটি হবে T625 এর মত এবং ওয়েপনস ও সেন্সরগুলো হবে T129 এর মত।এটি যুক্তরাষ্ট্রের FIM 92 এর এয়ার টু এয়ার ভার্সন বহন করতে পারবে।যার ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ১০কিঃমিঃ।
T130 এটি একটি ১০টন ওজনের একটি হেলিকপ্টার।এর দুইটি ভার্সন থাকবে।এটাক ভার্সনটি হবে USA এর এপাচির মত।এবং এর ইউটিলিটি ভার্সনটি একই সাথে ২০ জন সৈন্য ও লজিস্টিক বহন করতে পারবে।এগুলোতেও নিজস্ব ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হবে।তুরস্ক লাইসেন্স নিয়ে S70 ব্লাকহক এর তুর্কি ভার্সন T70 ও ইউরোকপ্টার তৈরি করে থাকে।এটি তুরস্কের তৈরি Gokdogan মিসাইল বহন করতে পারবে।
তুরস্কের কয়েকটি কম্পানি সামরিক ড্রোন তৈরি করে থাকে।তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে, রাষ্টয়ত্ব কম্পানি TAI।বেসরকারি কম্পানিগুলোর উল্ল্যেখযোগ্য হলো,এরদোগানের মেয়ের জামাইয়ের কম্পানি বায়কার,
তুর্কি জনপ্রিয় ফোন ব্রান্ড কম্পানি ভেস্টেল,
ও তুর্কি ইলেক্ট্রিক কম্পানি এসিসগার্ড।
এসিসগার্ডের তৈরি ড্রোন Songar এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে,এটি এসল্ট রাইফেল,স্নাইপার রাইফেল,মেশিনগান ও গ্রেনেড বহন করে।এটি তুরস্কের এই ধরনের একমাত্র ড্রোন।
Kargu-2 এটি হচ্ছে তুরস্কের অটনম'স রোটারি উইং এটাক ড্রোন বা সুইসাইড ড্রোন।এগুলোকে ভাসমান গোলা বলা হয়ে থাকে।এর ম্যাক্সিমাম রেঞ্জ ১০কিঃমিঃ।এন্ডুরেন্স ৩০মিনিট।এগুলো সর্বোচ্চ প্রায় ১.৫(৩ পাউন্ড)কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে।এর ওজন প্রায় ৭কেজি(১৫ পাউন্ড)।এর ম্যাক্সিমাম স্পিড 90 mph।একজন সৈন্য এই ধরনের চারটি ড্রোন একাই কন্ট্রোল করতে পারে।এগুলো অপারেটের জন্য কোন কন্ট্রোল রুমের প্রয়োজন হয় না। কাধ ব্যাগে বহনযোগ্য ট্যাবের মত ছোটখাট কন্ট্রোলার দারাই এগুলো অপারেট করা যায়।তুরস্ক এই ধরনের ৫০০ড্রোন তৈরি করবে।বিস্ফোরক বহন করার দিক থেকে এগুলো তিন ধরনের হয়ে থাকে।
১/ফ্রাগমেন্টেশন বিস্ফোরকবাহী যা কোন ব্যাক্তি বা লাইট ভেহিকল ধ্বংসে ব্যাবহৃত হয়।
২/শ্যাপড চার্জ বিস্ফোরকবাহী যা কোন হেভি আর্মার ধ্বংসে ব্যাবহৃত হয়।
৩/থার্মোব্যারিক বিস্ফোরকবাহী যা কোন বিল্ডিং কিংবা বাংকার ধ্বংসে ব্যাবহৃত হয়।
তুরস্কের রাষ্টয়ত্ব কম্পানি TAI ইতিমধ্যে PD170 নামক ড্রোনের ইঞ্জিন নির্মান করেছে।TAI এর ড্রোনে এই ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হবে।বায়কার মাকিনা ড্রোন ও টার্বোপ্রুপ ইঞ্জিন নির্মানের জন্য ইউক্রেনের সাথে চুক্তি করেছে।ইউরেশিয়া টাইমসের এক রিপোর্টে এসেছে,ইউক্রেনের সাথে সামরিক রিলেশন গড়ে তোলার কারনে ভবিষ্যৎ তুরস্ক যেকোন সামরিক পরিবহন,গানশিপ,আর্লি ওয়ার্নিং,এয়ারবোর্ন জ্যামার,মেরিটাইম পেট্রল,এয়ার টু এয়ার রিফুয়েলিং বিমানের জন্যে প্লাটফর্ম
নির্মানে সহায়ক হবে।ইউক্রেনের সাথে তুরস্কের সামরিক রিলেশনকে ভালো চোখে দেখেনি যুক্তরাষ্ট ও রাশিয়া।উভয়ই তুরস্ককে এই বিষয়ে সতর্ক করেছে।উল্লেখ্য,সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেংগে যাওয়ার পর ইউক্রেন সামরিক লজিষ্টিক নির্মানের অনেক কিছুই ভাগে পায়।কিন্তু অর্থের অভাবে সেগুলো ধরে রাখতে পারেনি।তুর্কি বিনিয়গে সেগুলো আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে!ইতিমধ্যে তুরস্কের আর্মাড ফোর্সে সার্ভিসে থাকা ১৩টি C130-E ৬টি C130-B পরিবহন বিমানের এভিওনিক্সগুলোকে TAI আপগ্রেড করেছে।CASA ক্রয়কৃত ৯টি CN-235 মেরিটাইম পেট্রল/সার্ভিলেন্স বিমান কে TAI এর ফ্যাসিলিটিতে নির্মান করেছে।বোয়িং থেকে ক্রয়কৃত ৪টি B737 বিমানকে TAI ফ্যাসিলিটিতে নিয়ে এসে AEW&C বিমানে রূপান্তরিত করেছে।ATR থেকে ক্রয়কৃত মোট ৬টি ATR-72-600 বিমানকে TAIএন্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ারে রূপান্তরিত করেছে।২০২৩ সালের মাঝে তুরস্ক নিজস্বভাবে তৈরি AEW&C ও এয়ারবোর্ন ইলেকট্রনিক জ্যামার সার্ভিসে নিয়ে আসবে তবে এর প্লাটফর্মটি হবে বোয়িং এর,বাকি সব হবে তুরস্কের।তুরস্ক সহ আরো কয়েকটি দেশ মিলে এয়ারবাসের সাথে যৌথভাবে A400M হেভি ট্রান্সপোর্ট বিমান তৈরি করে।তুরস্ক মোট ১০টি A400M ট্রান্সপোর্ট বিমান ক্রয় করেছে।এই ধরনের বিমানগুলো তৈরি করাটা যেমনি কষ্টসাধ্য ব্যাপার তেমনিই খরচ সাপেক্ষ!এগুলো ব্যাবসায়িক লক্ষ্য ছাড়া তৈরি করলে বড় ধরনের লসের সমুক্ষীন হতে হবে।তুরস্কের এই ধরনের মোট ৮১টি বিমান আছে।৮১টি বিমানের জন্যতো আর এই ধরনের বিমান নির্মানের ফ্যাসিলিটি তৈরি করা সম্ভব না!হ্যাঁ,তবে যদি কয়েকটি দেশ তুরস্কের সাথে মিলে যৌথভাবে উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সম্ভব হবে!অথবা বোয়িং বা এয়ারবাসের মত বেসামরিক বিমান নির্মান করতে পারে কিংবা লকহিড মার্টিনের মত সামরিক বিমানের ব্যাবসা ধরতে পারে তাহলেও সম্ভব হবে!
Bayractar TB1 হচ্ছে সার্ভিলেন্স ড্রোন।এর আপগ্রেড ভার্সন হচ্ছে Byractar TB2।এর পেলোড ক্যাপাসিটি ২০০ কেজি।এটি লিবিয়া ও সিরিয়াতে বেশ ভালো পারফর্ম দেখিয়েছে।এটি তুরস্কের তৈরি MAM-Lমিসাইল দ্বারা রাশিয়ার অনেকগুলো প্যান্টাসির এয়ার ডিফেন্স ধ্বংস করেছে।MAM-L এর সাধারন রেঞ্জ ৮কিঃমিঃ তবে নেভিগেশন সিস্টেম সহকারে রেঞ্জ ১৪কিঃমিঃ।এর ওজন ২২কেজি।
Vestale Karayel এটি একটি Byraktar TB2 এর মত ট্যাকটিক্যাল ড্রোন।
তুরস্ক মার্কিন MQ9 Repar ড্রোনের টট অনেক দিন ধরে চেয়ে আসতেছিলো।কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এতে রাজি হয়নি। তবে এখন,Byractar AKINCI নামে তুরস্ক রিপারের চেয়েও অত্যাধুনিক ড্রোন নির্মান করতেছে।এর ম্যাক্সিমাম টেক অফ ওয়েট হবে ৫.৫ টন এবং ওয়েপনস ক্যাপাবিলিটি ১৫০০কেজি।এর প্রথম প্রোটটাইপে ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট ধরা হয়েছিলো ৪.৫ টন।তখন এর ওয়েপনস ক্যাপাবিলিটি ছিলো ১৩৫০কেজি।এটি একটি মিডিয়াম অল্টিটিউড লং রেঞ্জের ড্রোন(MALE)।এতে থাকবে এসেলসানের তৈরি AESA রাডার,ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার পড,ইত্যাদি ধরনের অত্যাধুনিক সব এভিওনিক্স।এটি তুরস্কের তৈরি বিভিন্ন ধরনের এন্টি ট্যাংক মিসাইল,বাংকার ও বিল্ডিং বিধ্বংসী মিসাইল ও গাইডেট বোমা বহন করতে পারবে ।এটি বিশ্বের প্রথম ড্রোন হবে যেটি, এয়ার লাঞ্চড ক্রুজ মিসাইল বহন করতে পারবে।এটি দুইটি SOM ক্রুজ মিসাইল বহন করতে পারবে(ল্যান্ড এটাক ভার্সন SOM-A এবং এন্টি শিপ ভার্সন SOM-B1ও B2)।এটি তুরস্কের তৈরি শর্ট রেঞ্জের GOKDOGAN ও লং রেঞ্জের BOZDOGAN এয়ার টু এয়ার মিসাইল এর দুইটি ভার্সনই ক্যারি করতে পারবে।লং রেঞ্জের এয়ার টু এয়ার মিসাইল ক্যারি করার দিক থেকেও বিশ্বে প্রথম ড্রোন এটি।এবং এটি ড্রোন নির্মানের দিক থেকে তুরস্ককে বিশ্বে র্যাংকিং এ তৃতীয় অবস্থানে নিয়ে যাবে।২০২৩ সালে এর ম্যাস প্রডাকশন শুরু হবে।এর আপগ্রেড ভার্সনের নাম হবে AKINCI-2।এর ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট হবে প্রায় ৮.৫টন।পেলোড ক্যাপাসিটি হবে প্রায় ৩টন।এটি অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের Predator C এর মত হবে।
TAI AKSUNGUR এটি তুরস্কের তৈরি একটি মিডিয়াম অল্টিটিউড লং রেঞ্জের এন্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার(ASW) ড্রোন।এর পেলোড ক্যাপাসিটি প্রায় ১টন (অফিসিয়াল ঘোষনা ৯৫০কেজি)।
১/ANKA-A এটি ANKA সিরিজের প্রথম ড্রোন।এর ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট হচ্ছে ১.৬টন।পেলোড ক্যাপাসিটি ২০০কেজি।
২/ANKA +A এটি ANKA সিরিজের প্রথম অত্যাধুনিক ভার্সন।এর ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট হচ্ছে ৪টন।এতে যুক্ত করা হয়েছে SAR রাডার সহ আধুনিক সব আধুনিক এভিওনিক্স।
৩/ANKA B হচ্ছে ANKA Aএর থেকে বেশি পেলোড ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ভার্সন।
৪/ANKA I হচ্ছে ANKA সিরিজের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও ইন্টালিজেন্স ভার্সন।যেটি তৈরি করা হয়েছে তুর্কি ন্যাশনাল ইন্টালিজেন্স অর্গানাইজেশন এর জন্য।
৫/ ANKA-S হচ্ছে ANKA সিরিজের সবচেয়ে আপগ্রেড ভার্সন।এটি স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত একটি কমব্যাট ড্রোন।যা বায়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জে হামলা চালতে সক্ষম।
TAI AKSUNGUR এটি তুরস্কের তৈরি একটি মিডিয়াম অল্টিটিউড লং রেঞ্জের এন্টি সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার(ASW) ড্রোন।এর পেলোড ক্যাপাসিটি প্রায় ১টন(অফিসিয়াল ঘোষনা ৯৫০কেজি)।এটি এসেলসানের ও রকেট সানের তৈরি এন্টি সাবমেরিন রকেট বহন করতে পারে।যদিও এগুলো মুলত শিপ বেসড।এগুলোর এয়ার লাঞ্চড ভার্সন বহন করতে পারে AKSUNGUR।এই ধরনের এন্টি সাবমেরিন রকেটগুলোর রেঞ্জ ০.৫-২কিঃমিঃ।এগুলোর টেস্ট ডেপথ ১৫-৩০০মিটার।লাঞ্চার সহকারে ওজন ৪৩কেজি।শুধু রকেটের ওজন ৩৫.৫কেজি।
মার্কিন হাই অল্টিটিউড লং রেঞ্জের(HALE) ড্রোন RQ-4 Global Hawk এর মত তুরস্কের ড্রোন Goksungur নির্মানের প্রজেক্ট চলমান রয়েছে ।এটি ২০২৩ সালের মাঝে সার্ভিসে আসবে।এর পেলোড ক্যাপাসিটি হবে প্রায় ১.৫ টন।
তুরস্ক ২০৩০ সালের মাঝেই একটি স্টেলথ বোম্বার ড্রোন সার্ভিসে নিয়ে আসবে।যেটি অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের আপকামিং X47C এর মত হবে।এটি ৪.৫-৫টন ওয়েপনস ক্যারি করতে পারবে।
ARI-1T এটি এসেলসানের তৈরি একটি আনম্যান্ড ইন্টালিজেন্স ড্রোন।এর রেঞ্জ ১৫কিঃমিঃ।অল্টিটিউড ১০০০০ফিট বা ৩কিঃমিঃ।
Bayraktar Malazgirt এটি বায়কারের তৈরি একটি আনম্যান্ড ইন্টালিজেন্স হেলিকপ্টার।
AR300এটি TAIএর তৈরি একটি অটোনম'স হেলিকপ্টার।এটি দুইজন যাত্রী সহকারে ৪ঘন্টা ফ্লাই করতে পারে।এর ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট হচ্ছে ৩০০কেজি।এর একটি কমব্যাট ভার্সন তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
.তুরস্ক ২০২৩ সালের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের MQ8-C Fair Scotte এর মত একটি আনম্যান্ড কমব্যাট হেলিকপ্টার তৈরি করবে।যার ম্যাক্সিমাম টেকঅফ ওয়েট হবে ৩টন।
তুরস্ক ইতিমধ্যে একটি আনম্যান্ড কার্গো হেলিকপ্টার তৈরি করেছে।যা ৫০কেজি লোড নিতে পারে।এর ফ্লাইট এন্ডুরেন্স হচ্ছে এক ঘন্টা।২০২১সালের মাঝে এর লোড ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করে ১৫০কেজি করা হবে।২০২১সালে এর ম্যাস প্রডাকশন শুরু হবে।ভবিষ্যতে এর লোড ক্যাপাসিটি ও এন্ডুরেন্স আরো বৃদ্ধি করা হবে।
তুরস্কের নিজস্ব স্যাটেলাইট,জিপিএস,লেজার গাইডেট বোমা এবং বিভিন্ন ধরনের আনগাইডেট বোমা রয়েছে।ক্লাস্টার বোমা বা ন্যাপথান বোমা সহ আরো অনেক ধরেপের বোমা রয়েছে,যেগুলো নিজস্ব ভাবেই উৎপাদন করা হয়।এয়ার টু গ্রাউন্ড ও এয়ার টু এন্টি শিপ মিসাঈল ও এয়ার টু গ্রাউন্ড লেজার ওয়েপনসও আছে।
উল্লেখ্য নৌবাহিনীর অস্ত্র নিয়ে লিখাটুকু আসেনি।ঐ টুকু টাইমলাইনে সাপোর্ট করলেও গ্রুপে সাপোর্ট করেনি।