February 2, 2024

 ফিলিস্তিনি বদলা

মাঝে মাসে মনে হয়। যে মানুষটা আমার বাবাকে হত্যা করেছে, আমাদের বসতি-ভিটা গুড়িয়ে দিয়েছে। আমাকে অনিশ্চিৎ এক জীবনের দিকে ঠেঁলে দিয়েছে, তার সাথে যদি লড়ায়ে নামতে পারতাম!

যদি সে আমাকে হত্যা করে ফেলতো, তাহলে শেষমেশ বিশ্রামে যেতে পারতাম। আর যদি আমার সুযোগ আসতো, আমি বদলা নিতাম, কঠিনতম বদলা!

কিন্তু শত্রুর সাথে লড়াইয়ে নামার আগে যদি জানতে পারতাম, তার একজন মা আছে, যে তার জন্য অপেক্ষা করছে, বা একজন বাবা, যে ছেলে আসতে কিছুটা দেরির কারণে বুকের বা-পাশটা চেপে ধরেছে, তাহলে তাকে হত্যা করতাম না,সুযোগ থাকলেও না।

যদি জানতে পারতাম, তার কোন ভাই বা বোন আছে, কিংবা একজন স্ত্রী আছে। যে সারাটা সময় অপেক্ষা করে তকে একনযর দেখতে, তাকে স্বাগত জানাতে। কিংবা আছে কোন সন্তান, যে এক মূহুর্ত তার অনুপন্থিতি সইতে পারে না,বাবার আনা খেলনা পেলেই আনন্দে লাফিয়ে উঠে। তাহলে তাকে হত্যা করতাম না, সুযোগ থাকলেও না।

যদি জানতে পারতাম সে নিঃসঙ্গ,গাছ থেকে ছেঁটেফেলা বিচ্ছিন্ন এক ডালের মত, যার না আছে বাবা, না আছে মা, না ভাই-বোন, না স্ত্রী সন্তান, তাহলে তার সেই নিঃসঙ্গতায় নতুন করে কোনো যন্ত্রণাই আমি তাকে দিতাম না। এমনকি মৃত্যু যন্ত্রণাও না। বরং পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তার দিকে ফিরে না তাকানোতেই আপন সস্তুষ্টি খুজে নিতাম।

কারণ আমি জানি, তার এটি বিন্দুমাত্র মনোযোগ না দেয়াই এক কঠিনতম বদলা।

(ত্বাহা মুহাম্মদ আলির কবিতা অবলম্বনে)