উঠো এবার!
কাফনে মোড়া দুটি মানবশিশু।পৃথিবীকে আপন সুবাসে সুবাসিত করার আগেই অসূয়ার শিকার হয়ে ঝরে পড়া দুটি কলি। ফিলিস্তিনী মাটিতে মুসলিমবাগানে জন্ম নেয়া তাদের একমাত্র অপরাধ।
খবরে প্রকাশ,গত ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ইসরাইলী বিমান হামলায় মা ও তিন বোনের সাথে শিশু দু'টি নিহত হয়।হতভাগা পিতা এখনো বেঁচে আছেন কিনা আমাদের জানা নেই।
কিছুদিন আগে হামাস অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলে ঢুকতে সমর্থ হয়। তাদের হামলায় কিছু দখলদার ইহুদি মারা যায় (যদিও তাদের মতে শত শত বেসামরিক নাগরিক )। এরই জের ধরে দখলদার ইহুদিরা চরম প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে।আমেরিকা রণতরী পাঠাচ্ছে। গাজায় বিদ্যুৎ/খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বোমা ফেলা হচ্ছে অবিরাম।
ইতিহাস সংক্ষিপ্ত নয়। ইতিহাসের পাতায় তাকালে হামাসের হামলার পক্ষে লাখ লাখ পৃষ্ঠা অনায়াসে দাঁড় করানো যায়; ইতিহাস বলে ইসরাইলের পুরো সমাজ ও জনগোষ্ঠী জবরদখলকারী যুদ্ধপক্ষ। সুতরাং পুরো সমাজ প্রতিপক্ষের হামলার মুখে পড়াটাই তো স্বাভাবিক !এ জন্য হামলাকারীর উপর দায় আসবে কেনো!
ভূমির আসল মালিক ফিলিস্তিনীদের ভয়ংকরতম নৃশংসতার মাধ্যমে বাস্তভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হলো,নিরস্ত্র শিশু-কিশোর ও নারীকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হলো,তবুও ইহুদিরা শান্তিকামী। আর এ অন্যায় আগ্রসনের বিরুদ্ধে আপন ভূখণ্ড, দেশ ও জাতির মর্যাদা এবং পবিত্র ভূমির অধিকার আদায়ের জন্য মুক্তির লড়াই করতে গিয়ে যারা হামলা করলো,তাদের সংজ্ঞায়িত করা হলো সন্ত্রাসী।
এসবই বিশ্বব্যবস্থার মোড়লরা চোখ বুজে দেখলো।তারা চাইলে কি এত বছরেও ফিলিস্তিনীদের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিকার করতে পারতো না!!তারা এটা চাইবে না।কারণ, মানবাধিকার, গনতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা -এসবই আপেক্ষিক। যার ক্ষমতা আছে সংজ্ঞাগুলো তার জন্য নির্ধারিত।
ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে,এই অজুহাতে ইরাকে হামলা হলো।২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩লাখ ১৫ হাজার বেসামরিক নাগরিক মারা গেলো।কুফলে মারা গেলো আরো কত...তার কোন ইয়ত্তা নেই।
শেষপর্যন্ত গণবিধ্বংসী অস্ত্র পাওয়া যায়নি।আর মানবাধিকার লঙ্ঘন তো হয়ইনি;কারণ মানবাধিকারের সংজ্ঞা তাদের জন্য নয়,তাদের জন্য জেনেভা কনভেনশনও নয়!জাতিসংঘ তো…………………!
হে মুসলিম উম্মাহ!এবার উঠো,অলসতার ঘুম থেকে!আর কত পড়ে পড়ে মার খাবে? কবে বুঝবে, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার ,কথিত স্বাধীনতার সংজ্ঞা নিজেরা তৈরী করার জিনিস?উঠো এবার, মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াও ন্যয় প্রতিষ্ঠার অবধ্য শপথে।