ভাবসম্প্রসারণ: বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর (৩টি)
মূলভাব: বিশ্বে সৃজনশীল সকল কিছুতে মানবের যত অবদান আছে, মানবীর অবদানও তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়; বরং উভয়ের অবদান সমান। তাই মর্যাদার দিক দিয়েও পুরুষ-নারী উভয়ে সমান।
সম্প্রসারিত ভাব: এ পৃথিবীতে নর এবং নারী একে অপরের পরিপূরক সত্তা। মহান স্রষ্টা বিশ্বের আদি মানব হযরত আদম (আ) এবং মানবী বিবি হাওয়া (আ)-এর আবাসস্থল হিসেবে পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। পরবর্তীকালে আদম এবং হাওয়ার অবদানেই এ জগতে মানুষের আবাদ হয়েছে। নর ও নারী একে অপরের পরিপূরক। সৃষ্টির সে উষালগ্ন থেকেই নারী কন্যা, জায়া ও জননীরূপে সর্বদা নরের পাশে থেকে প্রেরণা, শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে। দুঃখ যন্ত্রণায়, বিপদাপদে পরম আত্মজনের মতো পাশে বসে সান্ত্বনা ও আশার বাণী শুনিয়েছে। নারী তার স্বভাবসুলভ স্নেহ মায়া, সেবা ও যত্ন দিয়ে নরের হৃদয়কে পরম প্রশান্তিতে ভরে দিয়েছে। নারী যদি নরের পাশে না থাকত নর কোনোদিনই ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখত না, সমাজ গড়ে উঠত না ও সভ্যতা বিকাশ লাভ করত না। নর যদি অস্থি, নারী তার মজ্জা, নর দেহ নারী প্রাণ। উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পর্যায়ক্রমে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতা। প্রত্যক্ষ হোক বা পরোক্ষ হোক, বিশ্বের যেখানে যত মহৎ কর্ম তা সম্পাদনের পেছনে নরের অনুরূপ নারীরও অবদান রয়েছে।