অধ্যবসায় রচনা ২০, ২৫, ৩০ পয়েন্ট | SSC HSC | PDF
উপস্থাপনা :-
জীবন আপনা-আপনি বিকশিত হয় না। তাকে বিকাশের পথে পরিচালিত করতে হয়। সেখানে অধ্যবসায়ের মতো মহৎ বৈশিষ্ট্য আরোপিত হলে জীবন সুন্দর ও সার্থক হয়ে ওঠে। অনেক গুণের সমাবেশে মানুষের যে সুন্দর চরিত্র গড়ে ওঠে তার পিছনে ভূমিকা পালন করে অধ্যবসায়। মানবসন্তান জন্মগ্রহণ করেই মানুষ হয় না। তার জন্য প্রয়োজন মনুষ্যত্ববোধের। অধ্যবসায় জীবনের গৌরবময় লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য কাজ করে।
অধ্যবসায় কী :-
অধ্যবসায় হচ্ছে কতিপয় গুণের সমষ্টি। চেষ্টা, উদ্যোগ, আন্তরিকতা, পরিশ্রম, ধৈর্য ইত্যাদি গুণের সমন্বয়ে অধ্যবসায় পরিপূর্ণতা লাভ করে । কোন কাজে ব্যর্থ হওয়ার পরও সফলতার জন্য পুনঃ পুনঃ চেষ্টা করার নামই অধ্যবসায়। তাছাড়া মনের আস্থা ও বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপদানের জন্য সুদৃঢ় সংকল্প নিয়ে চেষ্টার পুনরাবৃত্তিকেও অধ্যবসায় বলা হয় ।
অধ্যবসায়ের প্রথম ধাপ :-
পৃথিবীতে যে কোনো কাজে প্রথম উদ্যোগে সাফল্য লাভ করা সহজ নয়। যে মানুষ কাজের প্রথম উদ্যোগে সাফল্য লাভের আশায় ব্যর্থ হয়ে নিজেকে অসহায় মনে করে কাজ ছেড়ে দেয়, সে জীবনে কখনো উন্নতি লাভ করতে পারে না। অধ্যবসায়ী হতে না পারলে জীবনে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া যায় না। পৃথিবীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ইতিহাস পড়লে জানা যায়, তাদের অনেকেই প্রথম উদ্যোগেই কোনো কাজে সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। এজন্য বারবার বিভিন্ন কৌশলে, নতুন আঙ্গিকে চেষ্টা করতে হয়েছে।
অধ্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য :-
অবিরাম সাধনা, ক্রমাগত প্রচেষ্টা আর সুদৃঢ় প্রত্যয়ের নামই অধ্যবসায়। অথবা বলা যায়, সাফল্য অর্জনের জন্য ক্রমাগত সাধনাই অধ্যবসায়। অধ্যবসায় মানব চরিত্রের একটি গুণ—অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সঙ্গে রয়েছে উদ্যোগ, পরিশ্রম এবং আন্তরিকতা ইত্যাদি। মনের দৃঢ়সংকল্প নিয়ে, উৎসাহে উদ্দীপ্ত হয়ে, নিরলস সাধনার মাধ্যমে সফলতার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে আত্মনিয়োগ করলেই অধ্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
জীবনে বাধাকে অতিক্রম করার সাধনাই হলো অধ্যবসায়। আলস্য পরিহার করে দৃঢ় প্রত্যয়ে নিরন্তর সাধনাই অধ্যবসায়। অধ্যবসায় জীবনকে আশাবাদী করে তোলে—জীবনকে অর্থবহ করে। ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার', এখানেই অধ্যবসায়ের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।